মুভি রিভিউ ০১ঃ Extraction (2020) || বাংলাদেশে শুটিং করা হলিউডের মুভি এক্সট্রাকশন
মুভি রিভিউ ০১ঃ Extraction (2020) || বাংলাদেশে শুটিং করা হলিউডের মুভি এক্সট্রাকশন

মুভি রিভিউ ০১ঃ Extraction (2020) || বাংলাদেশে শুটিং করা হলিউডের মুভি এক্সট্রাকশন

এক্সট্রাকশন মুভি রিভিউ

এক্সট্রাকশন এর অর্থ হচ্ছে মূলত নিষ্কাশন বা অপসারণ করা। মুভিটি অ্যাকশন মুভি হিসেবে বেশ উপভোগ্য বলা যায়। মুভিটির গল্প আহামরি কিছু না হলেও এর রিয়েলিস্টিক ডিরেকশন, চোখ ধাধানো অ্যাকশন আর সহজ সরল উপস্থাপনা গল্পটি কে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। মুভিটির গল্প মূলত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ঘিড়েই এগিয়ে চলেছি। পরিচালক বুঝিয়ে দিলো বাংলাদেশের এরকম নোংরা বস্তি পরিবেশেও মুভি ফুটিয়ে তুলা যায় যদি ওইরকম শিল্প জ্ঞান আর দক্ষতা থাকে।

•Movie Name: Extraction
•Genre: Action
•Runtime: ১ঘন্টা ৫৭ মিনিট
•Based on: “ সিউডাড ” (যার অর্থ ‘শহর’)হচ্ছে ২০১৪ সালে পাবলিশ হওয়া স্পেনিশ বই যেটি লিখেছেন – এন্ডি পার্কস,এন্থনি রোসো,জো রোসো।
•Country: United States
•Language: ইংলিশ (ডুয়াল অডিও হিন্দি+ইংলিশ)
•Director: স্যাম হার্রগ্রেইব
•Casting: ক্রিস হেম্সঔর্থ (টাইলার্র), রোদ্রাক্স জেসওয়াল (অভি মহাজন), রন্দীপ হুদা (সাজু), প্রিয়ান্সু পেইনোয়েন্লি ( আমির আসিফ), পঙ্কজ ত্রিপাঠি (অভি মহাজন সিনিয়র), গোলসিফ্থেই ফারাহানি (নিক খান)

💢 যদিও মুভিটিতে এক আধটু বাদে পুরো মুভিটিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহ দেখানো হয়েছে। তবে মুভিটির শুটিং বাংলাদেশে এতোটা হয়নি। তবুও বাংলাদেশ শুটিং হয়েছে বলে কথা এই অনুভূতির মজাই আলাদা। মুভিটি মূলত তিনটি দেশে শুটিং করা হয়েছে….
✅বাংলাদেশে – ঢাকায়,
✅থাইল্যান্ডে – বান পঙ্গ,
✅ভারতে – আহমেদাবাদ, মুম্বাই।

মুভিটিতে ছেলেটি একটি প্রবাদ বলেছিলো টাইলার্র কে যা বেশ ভালো লেগেছিলো….

“তুমি কখনো নদীতে পড়ে গেলে ডুববে না,তবে পানিতে থেমে থাকার কারণে ডুববে ”।

এক নজরে দেখে নিতে পারেন এক্সট্রাকশন মুভির ট্রেইলারঃ

<

যারা অ্যাকশন মুভি লাভার তাদেরকে অবশ্যই দেখার জন্য সাজেশন রইলো। আশা করি সময়টা নষ্ট হবে না।

💢প্লটঃ অভির বাবা অভি মহাজন সিনিয়র একজন ভারতীয় মাফিয়া ডন যে এখন মুম্বাইয়ের জেলে আছে। সাজু সাবেক ইন্ডিয়ান স্পেশাল ফোর্সের অপারেটর এবং বর্তমানে অভির বাবার হয়ে কাজ করে। তাই অভির বাবার অনুপস্থিতিতে অভিকে সেই দেখাশুনা করে। একদিন হঠাৎ পুরোনো শত্রুতার জেরে বাংলাদেশের ড্রাগ মাফিয়া অামির আসিফ অভি মহাজন সিনিয়রের ছেলে অভি কে কিডন্যাপ করে বাংলাদেশ নিয়ে আসে। তারপর সাজু অভির বাবাকে বিষয়টা বললে, অভির বাবা সাজুকে বাংলাদেশ গিয়ে অভিকে ফিরিয়ে আনতে বলে,নয়তো তার ছেলেকে সে বাচতে দিবে না বলে হুমকি দেয়। পরে সাজু টাইলার্র কে সুপারি দেয় অভিকে ফিরিয়ে আনার জন্য। এরপর টাইলার্র ঢাকায় আসার পর থেকেই শুরু হয় মূলত মুভির মূল কাহিনী…. টাইলার্র কি পারবে অভিকে ফিরিয়ে আনতে? টাইলার্র আসলে কে?সে কেনই বা এই কাজ করছে? আর যেই সাজুই তাকে সুপারি দিলো সেই বা কেন তাকে মারতে চায়? এছাড়া ফরহাদ’ই বা কে? …… এই রকম সকল প্রশ্নের উওর জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই দেখতে হবে অ্যাকশন জনরার এই মুভিটি।

💢অভিনয়ঃ টাইলার্র কে নিয়ে কিছু বলতে চাই না সে বরাবরের মতো দূর্দান্ত👌….তাছাড়া বাকিরার অভিনয়ও বেশ ভালো ছিলো বিশেষ করে অভি ছেলেটার। সে টাইলার্র এর সাথে বেশ ভালোই মানিয়ে নিয়েছিলো। তবে অনেকে দেখেছি বাংলা উচ্চারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো। তাদের উদ্দেশ্যে বলি ভাই মুভিটিতে আপনি একটু লক্ষ করলে দেখবেন তাদের ভাষা বাংলাদেশের বাংলা ভাষার মতো না…. তারা কলকাতার বাংলা ভাষায় কথা বলছিলো।

💢গানঃ যেহুতু অ্যাকশন ফিল্ম তাই ডিরেক্টর গানের চাইতে মুভির অ্যাকশনে ফোকাস করছে বেশি।তবে বাংলাদেশের Jalali Set এর Dhaka City, আর Chyper Bangla 2K16 গান দুই’টা শুনে সত্যিই ভালো লাগছিলো।

💢অন্যান্যঃ মুভির ভিএফএক্স,বিজিএম,সিনেমাটোগ্রাফি, লোকেশন, ডিরেকশন, সব মিলিয়ে ভালোই লাগছে।
তবে হিন্দি ডাবিং ভালো লাগে নি। কারণ টাইলার্র এর ভয়েস ঠিক থাকলেও অভি ছেলেটার হিন্দি ভয়েস ভালো লাগেনি।

💢বিঃদ্রঃ অনেকে অভিযোগ করেছেন বাংলা ডাবিং নাই কেনো? সেইম প্রশ্ন আমারও ছিলো। নেটফ্লিক্স মুভিটি ৪০+– ভাষায় ডাবিং করছে অথচ বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্বীকৃতি পেয়েও এই ভাষায় ডাবিং হয় নাই। তাদের উদ্দেশ্য বলছি যদিও বিষয়টি দুঃখজনক তবে একটা পর্যায়ে আপনিও বলবেন বাংলা ডাবিং না হওয়াতে ভালোই হইছে। কারণ আমাদের বাংলা ডাবিং এতোটা ভালো হয় না।

 228 total views,  2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *