টেক রিভিউঃ Baseus Parallel PD & QC পাওয়ার ব্যাংক
টেক রিভিউঃ Baseus Parallel PD & QC পাওয়ার ব্যাংক

টেক রিভিউ ০১ঃ Baseus Parallel PD & QC পাওয়ার ব্যাংক

Baseus Parallel PD & QC পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ

আমরা যারা অনেক ট্রাভেল করি বা দিনের বেশিরভাগ সময় বাসার বাহিরে থাকি তাদের প্রত্যেকের ই মোবাইল চার্জ নিয়ে কমবেশি ঝামেলা পোহাতে হয়। তাদের এই ঝামেলা থেকে মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সলিউশন হচ্ছে পাওয়ার ব্যাংক। কিন্তু অনেকেই দেখা যায় পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে বেশ কনফিউজড থাকেন। কোন ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক নিব? কোনটা নেয়া উচিৎ? ক্যাপাসিটি কত হওয়া উচিৎ? ইত্যাদি প্রশ্নগুলো সবার মনেই কমবেশি এসে থাকে। তাদেরকে কেন্দ্র করেই আমার আজকের এই লেখা।
🔰প্রোডাক্টঃ Baseus Parallel PD & QC পাওয়ার ব্যাংক
🔰ক্যাপাসিটিঃ 20000mAh
🔰দামঃ১৭০০৳ (দাম জায়গা ভেদে ভিন্নও হতে পারে। তবে ১৭০০-২০০০ টাকার মধ্যেই আশাকরি পেয়ে যাবেন)
🔰লোকেশনঃ মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
(কোন দোকান থেকে কিনেছি তা স্পষ্ট মনে নেই। গ্রাউন্ড ফ্লোরের বাম দিক দিয়ে গেলে একেবারে শেষের ছোট্ট একটা দোকানে।)
আমরা যারা অনেক ট্রাভেল করি বা দিনের বেশিরভাগ সময় বাসার বাহিরে থাকি তাদের প্রত্যেকের ই মোবাইল চার্জ নিয়ে কমবেশি ঝামেলা পোহাতে হয়। তাদের এই ঝামেলা থেকে মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সলিউশন হচ্ছে পাওয়ার ব্যাংক। কিন্তু অনেকেই দেখা যায় পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে বেশ কনফিউজড থাকেন। কোন ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক নিব? কোনটা নেয়া উচিৎ? ক্যাপাসিটি কত হওয়া উচিৎ? ইত্যাদি প্রশ্নগুলো সবার মনেই কমবেশি এসে থাকে। তাদেরকে কেন্দ্র করেই আমার আজকের এই লেখা।
বেসুস ২০০০০ এম এ এইচ এর এই পাওয়ার ব্যাংক টি আমি আজ প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করছি। এটা যে খুব বেশি ভাল বা খারাপ তেমন কিছু বলবো না। এর কিছু প্রস ও কন্স আছে যা আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব কয়েকটি পয়েন্টে। আশাকরি তাহলে সবাই বুঝতে পারবেন যে এই পাওয়ার ব্যাংক টি মূলত কাদের জন্য ইউজেবল।
🔰বিল্ড ম্যাটেরিয়াল ও সাইজঃ ব্যাংকটির মূল বডি মেটাল নয়। প্লাস্টিক ও রাবারের সমন্বয়ে তৈরি। তবে এর মাথার দিকে মেটাল ব্যান্ড দেয়া রয়েছে। প্লাস্টিক হলেও এটি ধরতে মোটেও চিপ ফিল হয়না। এর বডির ডিজাইনটায় অনেকগুলো লম্বা লম্বা খাঁজ কাটা দাগ রয়েছে। তাই হাতে ধরলে মোটেও স্লিপারি ফিল হয় না ও হাত থেকে স্লিপ করে না।
হ্যা, এটা খুব বেশি হ্যান্ডি না। সাইজ একটু বড়। কিছুটা মোটা। খুব বেশি না। তবে বাজারের অন্যান্য ২০ হাজার mAh এর পাওয়ার ব্যাংকের তুলনায় কিছুটা হালকা। সেটার কারণটা একটু পরে বলছি। ব্যাংক টি হাতে লং টাইম ধরে রাখতে একটু কষ্ট হয়। তবে যারা পিঠে ব্যাগ ইউজ করেন তাদের জন্য এটা পারফেক্ট।কালো ও সাদা। এই দুই কালারে বাজারে পাওয়া যায়।
🔰ডিজাইন ও ফিচারঃ
  • ব্যাংক টু ডিভাইসে চার্জ দেয়ার জন্য তিনটি পোর্ট। একটি USB 3.0, একটি USB 2.0 ও একটি Type C পোর্ট। USB 3.0 পোর্টটি লাল রঙের যা দেখেই বোঝা যায় সেটি ফাস্ট চার্জের জন্য। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একই সাথে তিনটি ডিভাইসে চার্জ দিতে পারবেন এবং এটি ম্যাক বুকেও সাপোর্ট করে।
  • এটি একটি ফার্স্ট চার্জিং পাওয়ার ফ্যাংক ফর বোথ ইনপুট এন্ড আউটপুট। সর্বোচ্চ আউটপুট ১৮ ওয়াট। কিন্তু সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি ডিভাইস চার্জে রাখতে হবে আর সেটি Type C / USB 3.0 পোর্টে সংযুক্ত থাকতে হবে। একত্রে ২/৩ টি ডিভাইসে চার্জ দিলে প্রত্যেককে 10 W করে পাওয়ার সাপ্লাই দিবে।
  • ব্যাংক টি চার্জে থাকা অবস্থায় যদি এটায় কোন ডিভাইস সংযুক্ত করেন সেক্ষেত্রে 10 W এর পাওয়ার ডেলিভারি পাবেন।
  • ব্যাংক টিকে চার্জ দিতেও ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে। সেক্ষেত্রে এর ইনপুট ক্ষমতা সর্বোচ্চ 18 W. টাইপ সি ও মাইক্রো ইউ এস বি দুইটি পোর্টের মাধ্যমেই চার্জ দেয়া যাবে এবং দুইটি পোর্টেই 18W ইনপুট চার্জ সাপোর্ট করে। অর্থাৎ এর মাইক্রো ইউ এস বি পোর্ট দিয়েও আপনি ব্যাংকটিকে ১৮ ওয়াটে ফাস্ট চার্জ দিতে পারবেন।
ব্যাংকটির আরেকটি দিক বেশ ভালো লেগেছে যে এর চার্জিং পোর্টের সাথে একটি LED মনিটর যুক্ত আছে এবং এটি অটোমেটিক চার্জিং এর সময় অন হবে ও চার্জিং শেষে অফ হয়ে যাবে। এছাড়াও সাইডে একটি ছোট বাটন আছে যেটি চাপ দিয়ে যেকোন সময় আপনি ব্যাংকে কত পার্সেন্ট চার্জ আছে তা দেখতে পারবেন। অন হবার কয়েক সেকেন্ড পরে অটোমেটিক অফ হয়ে যাবে। LED মনিটরটি ক্যাবলের এক পাশে প্লাস্টিক কোটিং এর নিচে সংযুক্ত। তাই এটায় আঘাত লাগা/ডিসপ্লে ফাটার কোন সম্ভাবনা নেই। ফোন ফুল চার্জ হয়ে গেলে পাওয়ার ব্যাংক টি অটোমেটিক ভাবেই ডিসকানেক্টেড হয়ে যাবে তাই ফোন ওভারচার্জড হবার কোন ভয় নেই। উল্লেখ্য যে, পাওয়ার ব্যাংক টি একবার ফুল চার্জ দিয়ে আমি ২৪ ঘন্টার জন্য ফেলে রেখেছিলাম এবং ২৪ ঘন্টা পরেও এর ফুল ১০০% ই চার্জ ছিল। ১% ও ব্যাটারি ড্রেইন হয়নি।
🔰ব্যাটারি টাইপঃ এটি ২০ হাজার mAh ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ব্যাংক যার ব্যাটারি টাইপ হচ্ছে লিথিয়াম পলিমার। আপনারা অনেকেই জেনে থাকবেন যে সাধারণ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির চেয়ে লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারির স্থায়িত্ব অনেক বেশি হয়। আর লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি হাউজ করতে Li-Ion ব্যাটারির চেয়ে কম জায়গা লাগে। সেজন্যেই এটি নরমাল ২০ হাজার mAh Li-ion ব্যাটারির চেয়ে সাইজে একটু ছোট ও কম মোটা।
এছাড়াও আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, প্রায় সময় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ব্যাটারি ফুলে যায় কিন্তু লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারির ক্ষেত্রে এই চান্স খুবই কম। তাই এখন প্রায় মোবাইলেই এই লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারির ব্যবহার দেখা যায় যার ফলে ফোনের ব্যাটারিও বেশ লং লাস্টিং হয়।
🔰রিয়েল লাইফ এক্সপেরিয়েন্সঃ যেহেতু আমি এই ব্যাংক টি প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করছি তাই এর সম্পর্কে আমার অথেন্টিক মতামত টিই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। এই ৩ সপ্তাহের পুরোটা সময় ই আমি আমার ফোনকে চার্জ করতে এই ব্যাংক টি ব্যবহার করেছি।
আমার ফোনের ব্যাটারি 4000mAh ও এই ব্যাংক টি ফুল চার্জ করার পরে আমি চার বারের কিছুটা বেশি বার ফুল চার্জ দিতে পেরেছি। ৪.৫ বার বলা যায়। প্রতিবার ই ফাস্ট চার্জ দিয়েছি। কোন কোন পাওয়ার ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ব্যাংকে ফুল চার্জ থাকা অবস্থায় একটু দ্রুত চার্জ ডেলিভারি দেয় এবং ব্যাংকের চার্জ শেষ হয়ে আসলে চার্জ ডেলিভারি একটু স্লো হয়ে যায়। তো এই ক্ষেত্রে এটি আমাকে মোটেও ডিসএপয়েন্ট করেনি। প্রতিবার ই ১৮ ওয়াটের ফাস্ট চার্জ পেয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত চার্জিং স্পিড মোবাইলের চার্জারের মতই স্ট্যাবল ছিল।
চার্জ ইনপুট / আউটপুট, ফাস্ট/১০ ওয়াট কোন ক্ষেত্রেই ব্যাংক টি খুব একটা গরম হয়না এবং ডেলিভারির সময় ফোন ও নরমাল মোবাইলের চার্জে যতটা গরম হয় ততটাই গরম হয়। বেশি গরম হয় না ও ফোনের চার্জ ৫০% উঠে গেলে দ্রুতই ব্যাংক টি ঠান্ডা হয়ে যায়।
পাওয়ার ব্যাংকটি ফুল চার্জ হতে (১৮ ওয়াট ফাস্ট চার্জে) প্রায় ৫.৩০-৬ ঘন্টা সময় নেয়। নরমাল ১০ watt এর চার্জারে আমি চার্জ দিয়ে দেখিনি।
🔰পাওয়ার ব্যাংক টি যাদের জন্য প্রযোজ্যঃ এতক্ষণ রিভিউ পড়ার পরে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন যে এটি কাদের জন্য প্রযোজ্য। যারা যারা খুব হ্যান্ডি পাওয়ার ব্যাংক চেয়ে থাকেন তাদের জন্য এটা সুইটেবল না। যারা নিজের সাথে ছোট্ট ব্যাগ ইউজ করেন তাদের জন্য এটা পারফেক্ট। বাসায় বা অফিসে চার্জারের পোর্টের সংকট থাকলেও এটি খুব ভালো সাপোর্ট দিবে। লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি হওয়ার দরুন অনায়াসে লং টাইম (৫-৬ বছর) ব্যবহার করতে পারবেন।
এবার সংক্ষেপে রিভিউ মার্ক দেবার পালা।
  • ডিজাইনঃ ৮/১০
  • বিল্ড ম্যাটেরিয়ালঃ ৮/১০
  • ফিচারঃ ৯.৫/১০
  • ব্যাটারি টাইপঃ ১০/১০
  • প্রাইসঃ ১০/১০ (এই প্রাইসের কমে ২০ হাজারের কোনো ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক আশাকরি ২য় টি বাজারে পাবেন না)
রিভিউ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সবাই ভাল থাকবেন।

 199 total views,  3 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *