আপনারা কি জানেন শচীন শচীন চ্যান্ট টা কে শুরু করেছেন?
শচীন শচীন চ্যান্ট

আপনারা কি জানেন শচীন শচীন চ্যান্ট টা কে শুরু করেছেন?

শচীন শচীন চ্যান্ট টা কে শুরু করেছেন?

“আমার মা”!
“আমি যখন ক্লাস ফাইভ অথবা এর কাছাকাছি কোনো একটা ক্লাসে পড়তাম তখন আমাদের বিল্ডিং এর নিচে সিঁড়ির কাছে আমার বন্ধুদের সাথে খেলতাম। সন্ধ্যা ৭:৩০ টার দিকে আমার মা চাইত আমি ঘরে ফিরে যাই কিন্তু আমি খেলাটা ছাড়তে চাইতাম না। তখনি আমার মা ব্যালকনি তে এসে ” শচীন শচীন ” বলে ডেকে বলত যে “তোমার এখনি ঘরে আসা উচিত!”

খেলার দিন গুলিতে আমি একটু কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলাম, আমি রান কাউন্ট করতে চাইতাম না যে কত হল। মনে হত, রান টা গুনলেই আমি আউট হয়ে যাব।
একই জিনিস টা ” শচীন ” শচীন ” চ্যান্টের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য! কাউন্ট করতে চাইতাম না, যা হচ্ছে তা প্রাণ ভরে উপভোগ করতাম! পারিপার্শ্বিক অবস্থা টা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের! আর ঠিক এই জিনিস টাই উপভোগ করতাম আমি। এটা একটা আশীর্বাদ! আমি তাদের কে যতই ধন্যবাদ দেই না কেন সেটা কখনোই যথেষ্ট হবে না। ”
বলছিলেন শচীন।

মায়ের ব্যাপারে কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছেন যে, তার মা যখন লাস্ট টেস্ট ম্যাচ দেখতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন সেদিন তিনি খুবিই আবেগী হয়ে পড়েছিলেন।

“ওহ, আমি এই ব্যাপারে কথা বলতে গেলেই বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। আমি কখনোই নিজেকে খোলাখুলি ভাবে প্রকাশ করতে পারিনা। আমার মা কখনোই স্টেডিয়ামে দেখতে আসেন নি আমাকে। আমি মাকে বলেছিলাম যে, ” তোমার অন্তত একবার হলেও স্টেডিয়ামে আসা উচিত দেখার জন্য যে কিসের জন্য এতবছর আমি বাড়ি ছেড়েছি। তুমি আমাকে টিভি তে দেখো সেটা ঠিকাছে কিন্তু তোমার একবার হলেও সরাসরি স্টেডিয়ামে এসে দেখা উচিত আমাকে। কেউ কখনো গ্যারান্টি দিতে পারবে না যে আমি কত রান করব কিন্তু আমি অন্তত সবাইকে এটা বলতে পারবো যে, আমার মা সরাসরি আমাকে খেলতে দেখেছে। ”
“তিনি রাজি হয়েছিলেন অবশ্য! উনার কিছু সমস্যা ও ছিল! তিনি সহজে চলাফেরা করতে পারতেন না। যেভাবেই হোক, আমরা তাকে সেখানে নিতে পেরেছিলাম। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ই ব্যাটিং করা শুরু করল, তিনি অস্থির হয়ে চলে যেতে চাইলেন। আমার বন্ধু অভিনাশ উনাকে বোঝালো যে, ” আপনার থাকা উচিত, এমন ও হতে পারে যে দিনের শেষ পর্যন্ত শচীন ব্যাটিং করল!


এবং আমি করেছিলাম ও। আমি কিভাবে কি সেই লাস্ট ওভার টা ভুলতে পারি?
লাস্ট ওভারের আগে আমি অনেক ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম এবং জায়ান্ট স্ক্রীনের দিকে তাকিয়েছিলাম। সেখানে আমার মা কে দেখাচ্ছিল, অবশ্য আমার মা বিষয় টা টের পায় নি। হঠাত মা বিষয় টা বুঝতে পেরে মুখের যে অভিব্যক্তি টা হয়েছিল মায়ের! আমি বারবার বলতেছিলাম, ” গাইজ ডোন্ট ডু দিস, আমাকে এই ওভার টা টিকে থাকতে হবে! তখন ক্যামেরা মুভ করল আমার ভাইয়ের উপর, অঞ্জলির উপর এবং সাথে পুরো ফ্যামিলির উপর! প্রত্যেক বলের পর পর আমি মনে মনে বলতেছিলাম যে এইবার জানি কাকে দেখায়!


আমি সেদিন অবশ্য টিকে ছিলাম শেষ বল অব্দি। সেদিনের সেই মুহূর্ত গুলি আমি জীবনেও ভুলতে পারব না।

( ২০১৯ সালে ইন্ডিয়া টুডে কে দেয়া সাক্ষাতকারের আংশিক অনুবাদ)

 132 total views,  1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *