মুশফিকুর রহিমঃ অন্যতম এক ভরসা মিস্টার ডিপেন্ডেবল
মুশফিকুর রহিম

মুশফিকুর রহিমঃ অন্যতম এক ভরসা মিস্টার ডিপেন্ডেবল

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা খেলোয়ার মুশফিকুর রহিম

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস বাংলাদেশের সবথেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার কে তাহলে উত্তরে আপনার মাথায় অনেকগুলো নাম আসবে। কিন্তু যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের সবথেকে পরিশ্রমী ক্রিকেটার কে নিঃসন্দেহে সবাই একটি নামই বলবে – মুশফিকুর রহিম।

এই পরিশ্রমের মূলে রয়েছে মুশফিকের জেদ। ছোটোবেলা থেকে জেদের জন্য সুপরিচিত মুশফিক। আর এর বহিঃপ্রকাশই কিন্তু দেখা যায়। খেলার মাঠে কিংবা সোশাল মিডিয়াতে আবেগের যে অতি প্রকাশ দেখা গেছে তা এই অতিরিক্ত জেদের কারণেই।

মুশফিকুর রহিম এর জন্মদিন

ছবিঃ সংগৃহীত

শুধু জেদ না অসাধারণ মেধাবী হিসেবেই মুশফিকের সুনাম রয়েছে। আর জেদ আর মেধার অসাধারণ মিশ্রতাই মুশফিককে সফল করেছে তা বলায় যায়। বিকেএসপিতে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে যাওয়া মুশফিকের তাই খুব বেগ পেতে হয়নি লাইমলাইটে আসতে। ভালো ছাত্র পরিশ্রমী চরিত্র আর একাগ্রতা দিয়ে খুব ছোটো বয়সেই নেতৃত্বগুণ অর্জন করেছেন মুশফিক। বয়সভিত্তিক দলে অসাধারণ পারফর্মেন্সের দরুণ ২০০৫ এ টেস্ট দলে ডাক পান মুশফিক। যদিও তখন তার অন্তর্ভুক্তির মূল উদ্দেশ্যই ছিলো একজন উইকেটরক্ষক এর বিকল্প খোঁজা। ইংল্যান্ড এর পেস এন্ড বাউন্সি উইকেটে খুব ভালো শুরু না হলেও শুরুর শুরুটা যে তখনই হয়ে গেছিলো।

এরপর ২০০৬ এ আন্ডার নাইন্টিন ওয়ার্ল্ড কাপে দলনেতা হিসেবে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠান। সেই দলে তামিম-সাকিব তার সতীর্থ ছিলো। আন্ডার নাইন্টিনে মোটামুটি সফলই ছিলো মুশফিক। তাই সেই বছরই সাকিব আর রেজার সাথে জিম্বাবুয়ের সাথে ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যায় মুশফিকের। মারমুখী ব্যাটিং এর কারণে ওই সিরিজেই টি-টুয়েন্টি অভিষেক হয় মুশফিকের। এরপর ধীরে ধীরে পথচলা শুরু। ২০০৭ এর বিশ্বকাপে ভারতবধের দিন ম্যাচজয়ী বাউন্ডারি আসে ছোট্ট মুশফিকের ব্যাট থেকে। হাফ সেঞ্চুরি করে সেদিন ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটা মুশফিকই ঠুঁকে দিয়েছিলো। রচিত হয়েছিলো এক অনন্য ইতিহাস।

মুশফিকুর রহিম এর ভারত এর বিপক্ষে করা ৬০ রানের ইনিংসঃ

এরপরেই যেনো ছন্দপতন হয়। টানা ব্যাটিং ব্যার্থতায় দলে জায়গা হারান ধীমান ঘোষ এর কাছে। তবে মুশফিক তো হেরে যাবার পাত্র নয়। পরিশ্রম যে তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ঠিকই ফিরে এসেছিলো নিজের পরিশ্রম আর একাগ্রতার বলে। এরপর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়েছে। অনেক ভালো সময় আর খারাপ সময়ের সাক্ষী হয়েছে দল। ক্যাপ্টেন হিসেবে যেমন শেষ বলে ছক্কা মেরে উইন্ডিজদের হারিয়েছেন মুশফিক তেমনি টানা হারের ব্যার্থতায় হয়েছেন প্রশ্নবিদ্ধ। গ্লাভস হাতে অসাধারণ সেইভ কিংবা উইকেট যেমনি নিয়েছেন তেমনি সিলি ভুলও করেছেন। তবে দিনশেষে পরিশ্রমী মুশফিক দেশের অন্যতম সেরা একজন ব্যাটসম্যান। আর তাইতো পেয়েছেন ডিপেন্ডেবল তকমা।

মুশফিক কতটা ডিপেন্ডেবল এবং পরিশ্রমী তা কিছু পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝা যাবে। শ্রীলংকার সাথে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দিন ৩২১ বল খেলেছিলেন মুশফিক। এরপর তামিম সাকিব তার রেকর্ডে ভাগ বসানোর পর আবার জিম্বাবুয়ের সাথে রেকর্ড ২১৯* রানের ইনিংস খেলে নিজের রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেন। আর সেই ইনিংস খেলতে পাক্কা ৯ ঘন্টা ৪৯ মিনিট ক্রিজে থাকেন মুশফিক। এছাড়া শ্রীলংকার সাথে ওয়ানডেতে ব্যাটিং বিপর্যয় এর মুখে তখনকার সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ১৪৪ রানের ইনিংস খেলে মুশফিক। এরকম দলের প্রয়োজনে বহুবার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে মুশফিক। কখনো সাকিব কিংবা কখনো রিয়াদকে সাথে নিয়ে। এশিয়া কাপের সেই ঝড়ো ইনিংস কিংবা নিদহাসের সেই রেকর্ড চেস করা ম্যাচের ব্যাটিং ঝড়। দলকে হাসিয়েছেন বহুবার। অনেক সময় তীরে এসে তরী ডুবেছে হয়েছেন সমালোচিত। ভালো খারাপ সবকিছুর সাক্ষী হয়েছেন ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে। পেয়েছেন রান মেশিনের তকমা।

১৫ বছর ক্যারিয়ারে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব অনেক কিছুই আছে। ওয়ানডেতে প্রায় ৩৬ গড়ে ৬০০০+ রান। সর্বোচ্চ ১৪৪ আর সেঞ্চুরি ৭ টি। অর্ধশতক এর দেখা পেয়েছেন ৩৮ বার তাই সেঞ্চুরির সংখ্যা নিয়ে আফসোস করতেই পারেন মুশফিক। এছাড়া উইকেটরক্ষক হিসেবে রয়েছে ২২৩ ডিসমিশালের রেকর্ড। টেস্টে ৩৭ গড়ে ৪৪১৩ রান আর দলের হয়ে ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৯* সাথে ১১৩ ডিসমিশাল। টি টুয়েন্টিতে ১২৮২ রান আর ৬১ ডিসমিসাল। হয়তো খুব আহামরি না কিন্তু শেষ কয়েকবছরে মুশফিকের ব্যাটিং এই পরিসংখ্যান এর সাথে একেবারেই যায়না। এই সময়ে মুশফিক নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। তিন ফরম্যাটেই দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক। এভাবে আরো কয়েক বছর খেলতে পারলে ওয়ানডেতে ৪৫+ গড় আর ১০০০০+ রান আমরা খুব শীঘ্রই দেখতে পাবো আশা করি। সাথে বাকি দুই ফরম্যাটেও নিজের পরিসংখ্যানকে করবেন সমৃদ্ধ।

দলের পঞ্চপাণ্ডব এর একজন,অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী ক্রিকেটার মুশফিক ১৯৮৭ সালে আজকের এই দিনে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ৩৩ বছর পেরিয়ে আজ ৩৪ এ পা দিলেন এই লিটল ডিনামাইট। আশা করি অনেক বছর বেঁচে থাকবেন এবং বাংলাদেশ দলকে সার্ভিস দিয়ে যাবেন এই ক্রিকেটার।

 321 total views,  2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *