মুভি রিভিউ ০৩ঃ ট্রেন টু বুসান (2016) || ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট মুভি
মুভি-রিভিউঃ-ট্রেন-টু-বুসান

মুভি রিভিউ ০৩ঃ ট্রেন টু বুসান (2016) || ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট মুভি

ট্রেন টু বুসান মুভি রিভিউ

ট্রেন টু বুসান বা বুসানগামী ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনটি সিউল থেকে বুশানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল। কিন্তু বুসান পর্যন্ত মাত্র দুজনই পৌঁছাল। বাকিদের ট্রেনের মধ্যেই এক নাটকীয় লড়াইয়ে দেহান্তর হলো।

প্রশ্ন হতে পারে কীভাবে??

নাম : Train To Busan
ধরন : South Korean Action Horror
পরিচালক: Yeon Sang-ho
রান টাইম : ১১৮ মিনিট
আই এম ডি বি : 7.5/10

ট্রেইলারঃ

ট্রেনটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় সেখানে জম্বি* আক্রমণ।জম্বিদের এলোপাথাড়ি মরণকামড় যাত্রীদের অস্থির করে তুলে।কেউ কেউ বুঝে উঠার আগেই অক্কালাভ করেন। একটু অনুধাবন করলেই এখানে জম্বিকে বর্তমানের করোনা ভাইরাসের সাথে তুলনা করা যায় যার রুপও  খুব ভয়ানক!!

জম্বি কী?

বাংলায় অনুবাদ করলে জম্বি কথার অর্থ হলো জিয়ন্ত মানুষ বা মানুষ খেকো রোগে আক্রান্ত মানুষ। জম্বি বা মানুষ খেকো রোগে আক্রান্ত মানুষের আয়ুকাল সর্বচ্চো ২০ দিন। ২০ দিন পর পর এদের মৃত্যু হলেও এরা ১০০ দিনে পৃথিবী শেষ করে দিতে সক্ষম।

বিজ্ঞানের ভাষায় জম্বিরা হলো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত এমন মানুষ যারা যারা খুব দ্রুত রোগ ছড়াতে পারে। ১৩ শত খ্রিষ্টাব্দে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে ইউরোপের হাজারো মানুষ অল্পদিনের মধ্যেই মারা গিয়েছিলো। তেমনই পৃথিবীর মধ্যে কোনো মহামরী রোগ হঠাৎ করে দেখা দিলেই প্রথম আক্রান্ত মানুষটি হবে প্রথম জম্বি। এই জম্বির ক্ষেত্রে আরেকটি সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করার সম্ভাবনা ৯০%। কাজেই প্রতিটি জম্বি নূন্যতম প্রতিদিন একজন সুস্থ মানুষকে আক্রান্ত করলে ১০০ দিনে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ জম্বিতে পরিণিত হবে।( *গুগল)

কাহিনী সংক্ষেপ :

সোক-উ হ’ল একটি তহবিলের পরিচালক যিনি তার স্ত্রী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ছোট্ট কন্যা সু-আন’কে নিয়ে বসবাস করছেন। ছোট্ট মেয়ে সু- আন ভালো গান করত। এখন বাবা তার মেয়ের গান / আবৃত্তি খুব মিস করছে। কিন্তু মেয়ে গান করছে না‌ ।এরই মধ্যে মেয়ের জন্মদিন আসে। জন্মদিন উপলক্ষে মেয়ে বাবাকে রাজি করায় বুশানে মায়ের কাছে নিয়ে গেলে সে বাবার আর্জি রাখবে।

পরের দিন তারা সিওল স্টেশন থেকে KTX 101 ট্রেনটিতে উঠে। অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে আর দুটো প্রধান চরিত্রে ছিলেন সাং-হাওয়া এবং তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী সিওং-কিং।

তার পর শুরু হয় জম্বি আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকার এক কঠিন সংগ্রাম।বাবা সোক – উ এর আত্মত্যাগের বিনিময়ে কেবল ছোট্ট সু – আন আর গর্ভবতী সিওং-কি মহিলাটি ছাড়া আর কেউই রক্ষা পায়নি।পুরো মুভিটিতে যেন এক টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। ভয় ,আতংক, মৃত্যু, সংগ্রাম ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে মুভির কাহিনিটি। শেষ হওয়ার পরও এর রেশ থেকে যাবে ..!

শেষ পর্যন্ত ঐ দুজন ছাড়া ,প্রাণঘাতী ভাইরাসের আক্রমণ থেকে জীবন বাঁচিয়ে ট্রেনভর্তি মানুষগুলো থেকে আর কেউই বুশান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি ‌।

উপলব্ধি:

কোরিয়ান এই মুভিটিতে দেখানে হয় কীভাবে একটি সংক্রমিত ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবের করুণ পরিণতি। আপনি দেখবেন ট্রেনে কর্মরত ব্যক্তিদের অসতর্কতার কারণেই ভাইরাসটি ট্রেনের ভিতরে প্রবেশ করে, সবার মধ্যে ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ে । যার ফলে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

দেখা যাবে সংকটময় মুহূর্তে কিছু মানুষের স্বার্থপরতার বিমর্ষ চেহারা। এর বিপরীতে দেখা যাবে পিতৃত্বের কাছে বাবার আত্মত্যাগেরও এক বিস্ময়কর চিত্র।

কিন্তু সচেতনতা, সতর্কতা, সাবধানতা,আর দায়িত্বশীলদের দায়িত্ববোধ এগুলো সবার জন্য,সব দেশের মানুষের জন্য কাম্য নয় মনে হয় ??? তাছাড়া ‌আমরা এমনিতেই ভাইরাসের চেয়েও অনেক শক্তিশালী।

Chaucer এর একটা উক্তি খুব মজার। তিনি বলেছিলেন,” Handsome is that handsome does.”
তাই আমারও মনে হয় ,আমরা যে যেটা বলছি ,করছি এটাই নীতি ,এটাই ঔষধ,এটাই মেডিসিন, এটাই ভাইরাস প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। সবশেষে সবার জন্য শুভ কামনা।আর আমাদের সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

 234 total views,  2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *