মুভি রিভিউঃ চলো পাল্টাই (২০১১)
চলো পাল্টাই

মুভি রিভিউ ০২ঃ চলো পাল্টাই (২০১১)

মুভি রিভিউঃ চলো পাল্টাই (২০১১)

হ্যাঁ ভাই আমি জানি, এটা “Shikshanachaya Aaicha Gho” নামের মারাঠি ফিল্মের রিমেক। কিন্তু বিশ্বাস করুন এই মুভিটার সাথে ছোটবেলার সেই আবেগ এমনভাবে জড়িয়ে আছে না যে এগুলো খুব একটা ফ্যাক্ট করে না। যাদের বয়সটা আমার কাছাকাছি না তাদের কথা আমি বলতে পারছি না, কিন্তু আমি যখন এই মুভিটা দেখেছিলাম তখন সাউথ তো দূর বলিউডের ছবিই আমার খুব একটা দেখা হয়ে উঠেনি। তাই থ্যানক্স টু হরনাথ চক্রবর্তী এরকম সুন্দর একটা ফিল্ম বাংলায় রিমেক করে আমাদের শৈশবটাকে আনন্দের করে তোলার জন্য। এই মুভিটা দেখার পরে মনে হয়েছিলো যাক কেউ তো আছে যে আমাদের মনের কথাগুলো ভাবে। আমাদের জন্য ভাবে। এতটুকু সাপোর্টই ওই ছোট্ট মনের জন্য যথেষ্ট ছিলো। অ্যান্ড স্টিল, এই মুভিটা আমার পছন্দের লিস্টের মধ্যে একটি।

🔰মুভির নামঃ চলো পাল্টাই (২০১১)
🔰পরিচালকঃ হরনাথ চক্রবর্তী
🔰ধরনঃ ড্রামা, স্পোর্টস
🔰ভাষাঃ বাংলা (Remake of Marathi film)
🔰আইএমডিবি রেটিংঃ ৭.৩/১০
🔰পার্সোনাল রেটিংঃ ৮/১০

আর হ্যাঁ, মুভিটা যেহেতু রিমেক তাই মুভিটার স্টোরি আর ডিরেকশনের প্রশংসা (যদি ফ্রেম টু ফ্রেম রিমেক হয়, আমার অরিজিনাল মারঠি ফিল্মটা দেখা নেই) মূলত অরিজিনাল ফিল্মটারই প্রশংসা। তবে আমি এখানে স্বাভাবিকভাবেই এই মুভিটা নিয়েই আলোচনা করে গেলাম। আপনারা বুঝে নিয়েন কোনক্ষেত্রে অরিজিনাল ফিল্ম আর কোনক্ষেত্রে এই ফিল্মটার নিজস্ব টপিকের প্রশংসা করা হচ্ছে।

🔰স্টোরি & স্ক্রিন-প্লেঃ মুভিটিতে আমরা একজন মধ্যবিত্ত বাবার গল্প খুঁজে পাই। যে তার সবটুকু দিয়ে তার ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে চায়৷ কিন্তু ছেলে তার একটু অন্যরকম। সে পরীক্ষার খাতায় কলম চালানোর চেয়ে খেলার মাঠে ব্যাট চালাতে পটু। তবে বরাবরই যা হয়, একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা যে কিনা বাস্তবতার লড়াইকে ভয় পায়, আর কাছে এসব প্রতিভা বেশি গুরুত্ব পায় না। ছেলে তার ভালো করে পড়াশুনা করে একটা ভালো চাকরি করবে এর মধ্যেই বাবার স্বপ্ন সীমাবদ্ধ। কিন্তু ছেলের প্রতি ভালোবাসা থেকে বাবা ছেলেকে খেলতে যেতে শক্তভাবে বারণও করতে পারে না। তবে সবসময় চাপ দিয়ে যায় পড়াশুনার জন্য। তো হঠাৎ তাদের জীবনে এমন কী ঘটে যার জন্য এই মধ্যবিত্ত পরিবারের এই বাধাঁধরা ছকটা পাল্টে যায়? কি এমন হয় যার কারণে এই মধ্যবিত্ত বাবা একাই নেমে পড়ে দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে? জানতে দেখে ফেলুন ২ ঘন্টা ১৭ মিনিটের এই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ছবিটি। মুভিটার কাহিনীটাই এমন যে যেকোনো স্টুডেন্ট খুব সহজেই নিজেকে ছেলেটার সাথে রিলেট করে ফেলবে। আর তাই মুভিটা মনে এতটা ছাপ ফেলে। মুভির চরিত্রগুলোকে এতটা আপন মনে হয়।

বিশেষ করে শুধু একটা সিনের কথা বলি। টিভিতে শুভময়ের ইন্টারভিউয়ে যখন সে একটা পরিবারের একটা বাচ্চার উপর বড়রা পড়াশুনার জন্য যে চাপ দেয় তার কথা বলছিলো তখন পুলিশ অফিসার নিজের বউকে টিভির দিকে দেখিয়ে বলে “এই দেখ তুমি।” এই ছোট্ট সিনটায় মন কেন যেন খুশিতে লাফিয়ে উঠে। এরকম অসংখ্য দৃশ্য মুভিটি শেষ করার পরও আপনার মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে।

আর স্ক্রিনপ্লে নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি ইমোশনাল দৃশ্যগুলো চোখে একফোঁটা জল এনে দিয়েছিলো।

🔰কাস্টিং & অ্যাক্টিংঃ মুভিটির চরিত্রগুলোর অ্যাক্টিং নিয়ে আলাদা করে বলতেই হয়। মধ্যবিত্ত বাবা শুভময়ের চরিত্রে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর অভিনয় ছিলো মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো৷ আপনি যদি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়ে থাকে তাহলে এই মুভিটিতে শুভময় চরিত্রটির গল্প দেখার পর আপনার নিজের বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যাবে। কে জানে হয়তো তখন পড়াশুনার জন্য বাবার রাগ করাটাকে আর রাগ বলে মনে হবে না।

আর গৌরভ চরিত্রে আরিয়ান ভৌমিক এবং মুন্নি চরিত্রে তাথৈ দেবও যথেষ্ট ভালো অভিনয় করেছেন। মুভিটতে শুভময়ের বন্ধু থেকে শুরু করে পুলিশ অফিসার পর্যন্ত প্রতিটি চরিত্রের কাস্টিং ছিলো বেশ মানানসই আর অভিনয়ও ছিলো ভালো লাগার মতো।

সবশেষে এই মুভির কাস্টিং & অ্যাক্টিংয়ে আমার পার্সোনাল রেটিং ৯/১০।

🔰ডিরেকশন & কোরিওগ্রাফিঃ মুভিটির পরিচালক এত সুন্দর করে মুভির পরিবারটির কথা তুলে ধরেছেন যে মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। আগেও বলেছি, যে মুভিটির কিছু দৃশ্য ছিলো মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো। আর মুভিটির কোরিওগ্রাফিও ছিলো যথেষ্ট ভালো।

🔰মিউজিক & ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডঃ মুভিটির মিউজিক কম্পোজার হিসেবে ছিলেন অনুপম রয়। এখন যাদের কাছে অনুপম রয়ের গান বোরিং বা ওল্ড ফ্যাশন লাগে তাদের কথা নাই বা বললাম। পার্সোনালি আনুপম রায় আমার প্রিয় গায়ক এবং মিউজিক কম্পোজারের মধ্যে একজন। বরাবরের মতো এই মুভিতেও ওনার প্রতিটি গানই আমার ভালো লেগেছে। বিশেষ করে “বাড়িয়ে দাও তোমার হাত” গানটি আমার সবচেয়ে পছন্দের। আর সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মুভিটিকে আরো হার্ট টাচিং করে তুলেছে। তাই এই মুভিটির মিউজিক & ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডে আমার পার্সোনাল রেটিং ১০/১০।

🔰 সবশেষে বলতে হয় স্টুডেন্ট লাইফে (বিশেষ করে কলেজে উঠার আগেই) এটি মাস্টওয়াচ মুভির মধ্যে একটি। যদি না দেখা থাকে আজই দেখে ফেলুন। যদি দেখা থাকে তবে আবার দেখে ফেলুন। কারণ আমি শিউর মুভিটা দেখতে বসলে আপনি Nostalgic হয়ে যাবেন।

🔰🔰🔰মুভিটা বহু আগে থেকেই আমার ডেস্কটপে ডাউনলোড করা ছিলো আর আমি এর মধ্যে কমপক্ষে ১০ বার দেখেছি। তাই প্লিজ লিংক চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। ইউটিউবে (আমি সেখান থেকেই নামিয়েছিলাম জানিনা এখনো আছে নাকি রিমুভ করে দিয়েছে) বা অন্যান্য বাংলা মুভির সাইটে ঘাটাঘাটি করলেই পেয়ে যাবেন।

 134 total views,  2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *