করোনা ভাইরাস মহামারী || কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ? || মুক্তি মিলবে কবে ??
করোনা ভাইরাস মহামারী

করোনা ভাইরাস মহামারী || কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ? || মুক্তি মিলবে কবে ??

করোনা ভাইরাস  মোকাবেলায় ৭০ দিন শেষে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে ? 

বন্ধ হয়ে গেছে সবকিছু। থমকে গেছে পৃথিবী। যেসব জায়গায় একসময় মানুষের সমাগমে মুখর থাকতো সেসব জায়গায় ই মানুষ শূন্য। পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও লেগেছে মহামারীর ছোয়া। আর সেই ছোয়ায় লকডাউনে পুরো দেশ। একের পর এক ছুটির ঘোষণা বাড়ছে। নিম্নবিত্তরা ছুটে বেড়াচ্ছে এখান থেকে সেখানে । কবে শেষ হবে এ মহামারীর?

এক নজরে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলঃ

করোনা ভাইরাস মহামারী-কোথায় দাড়িয়ে বাংলাদেশ-মুক্তি মিলবে কবে 04

তথ্যসূত্রঃ IEDCR

করোনা ভাইরাস সর্বপ্রথম ধরা পড়ে চীনের উহানে গত ডিসেম্বরে। এরপর তা পুরো চীনব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ২০২০ এর শুরুর নাগাদ। এরপর ফেব্রুয়ারীর পর ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। গত মার্চে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই দিনে দিনে বাড়ছে এর প্রকোপ। ধারনা করা হচ্ছে, এই মাসের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা হবে ৫০ হাজার এর কাছাকাছি। অন্যদিকে ইউরোপ এর পর নতুন হটস্পট এখন ব্রাজিল। দিনে প্রায় কয়েকশো মানুষ মারা যাচ্ছে এই ভাইরাসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধারনা করছে খুব শীঘ্রই অন্যতম হটস্পটে পরিণত হবে বাংলাদেশ সহ পাশের ভারত এবং অন্যান্য দেশগুলো।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অধিক মানুষের জনসমাগম ঠেকাতে ৬ষ্ঠবারের মত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সাধারণ ছুটি চলছে গত ২৬শে মার্চ থেকে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া রোধ করার জন্য সাধারণ ছুটির মেয়াদ আগামী ৩০ই মে পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে খুলে দেওয়া হয়েছে গার্মেন্টস গুলো। যদিও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পর কারখানা খোলার নির্দেশনা থাকলেও তা কতটুক বাস্তবায়ন হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। বাস মালিক ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে গণপরিবহন চালু করার জন্য। কিন্ত সরাকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তঃজেলা চলাচলের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এখন, তা বহাল থাকবে।

এছাড়া আগামী কিছুদিন এর মধ্যে থেকেই আন্তঃনগর ট্রেন চলাচলের ব্যাপারেও আলোচনা চলছে বলে শোনা গিয়েছে। সাভারের হেমায়েতপুরের ট্যানারি শিল্প এলাকায় কারখানা চালু হয়েছে আংশিকভাবে, সেখানকার শ্রমিকেরা বলছেন, করোনা ভাইরাস এর স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তারা কাজে এসেছেন এখন চাকরি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ।

কিন্তু শেষ কোথায় এর ? মানুষ কবে নাগাদ ফিরতে পারবে তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনে? মুক্তি মিলবে কবে সেই প্রশ্ন উঠছে এখন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরি শেষ হতে অনেক সময় বাকি। সম্ভবত লাগতে পারে কয়েকবছর পর্যন্ত।

এটা ঠিক যে যেভাবে বড় বড় শহর কলকারখানা এবং প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরারা উপর বিধি নিষেধ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এভাবে সবকিছু বন্ধ থাকলে এর প্রভাব হবে মারাত্মক। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাই একটি কৌশল খুঁজে বের করতে হবে। বিধি-নিষেধগুলো প্রত্যাহার করে উপায় খুঁজতে হবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার। যদিও এর ফলে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। এবং এসব তুলে দিলে সংক্রমণের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে।

এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির সংক্রামক রোগ বিষয়ক অধ্যাপক মার্ক উলহাউজ বলেছেন এই সংক্রমন থেকে বেরিয়ে আসার তিনটি উপায় রয়েছেঃ
১. টিকা দেয়া  (যদিও তা আবিষ্কার হতে এখনো অনেক দেরী)
২. বহু মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে তাদের মধ্যে এনিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে
৩. অথবা স্থায়ীভাবে মানুষ এবং সমাজের আচার-আচরণে পরিবর্তন নিয়ে আসা

সিডিসি (সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন) এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে শুধু প্রাথমিক সতর্কতাই হতে পারে এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। তার বলছে খুব শীঘ্রই এ   থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা সবাইকে যতোটা সম্ভব সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

অধ্যাপক সাবেরা গুলনাহার (রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক) বলছেন, এখন পর্যন্ত যেহেতু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, সেটা থামাতে হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মত সতর্কতা নেয়াই একমাত্র উপায়। তিনি মনে করেন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে, বিশেষ করে মে মাসটিকে যখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে, তখন লকডাউন বা অচল অবস্থা পরিস্থিতি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।

এরইমধ্যে ইউএসএ তে এক ব্যক্তির দেহে পরীক্ষামূলক-ভাবে ভাইরাসের টিকা দেয়া হয়েছে। কোন টিকা আবিষ্কার করলে সেটি প্রথমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার করা হয় যে কোন প্রাণির উপর। এক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে প্রথমেই প্রয়োগ করা হয়েছে মানুষের উপর।যদিও করোনা ভাইরাস এর টিকা আবিষ্কারের জন্য বেশ দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। কিন্তু এটি সফল হবে কিনা কিংবা বিশ্বজুড়ে এই টিকা দেয়া যাবে কি না – সে নিশ্চয়তা নেই।

 1,177 total views,  1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *